সর্বোচ্চ প্লেয়ার-অফ-দ্য-ম্যাচ পুরস্কারপ্রাপ্ত টেস্ট ক্রিকেটাররা ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন, যারা প্রায়ই দলের পক্ষে খেলাগুলো ঘুরিয়ে দিয়েছেন। তাদের দক্ষতা, ধৈর্য্য এবং ম্যাচ জেতার ক্ষমতা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সম্মানিত খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত।
Table of Contents
৫. কার্টলি অ্যামব্রোস, স্টিভ ও’অ্যাও এবং সচিন তেন্ডুলকর: ১৪টি পুরস্কার

একটি টেস্ট ম্যাচে ছাপ ফেলা যখন কথা আসে, এই তিন কিংবদন্তি সেটা অভ্যাসে পরিণত করেছেন। স্যার কার্টলি অ্যামব্রোস, যিনি ব্যাটসম্যানদের হপ, ডাক এবং প্রার্থনা করতে বাধ্য করেছেন, মাত্র ৯৮ টেস্টে ১৪টি ম্যাচের সেরা (MOTM) পুরস্কার জিতেছেন। বল হাতে এক দানব এবং তাঁর নির্দয় মুখাবয়ব নিয়ে এক আতঙ্ক।
স্টিভ ও’অ্যাও সম্পূর্ণ আলাদা ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার আসল আইস ম্যান, নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনের সারিতে থেকে, ধৈর্য ও কঠিন মনের সঙ্গে প্রতিপক্ষদের পিষে দিয়েছেন। ১৬৮ ম্যাচে ১৪টি ম্যাচ সেরা পুরস্কার পেয়েছেন, যার বেশির ভাগই এসেছে যখন অস্ট্রেলিয়াকে উদ্ধারকারীর প্রয়োজন ছিল।
এবং তারপর আছে মাস্টার ব্লাস্টার নিজেই: সচিন তেন্ডুলকর। ২০০ টেস্ট খেলে তেন্ডুলকর প্রয়োজনে বড় মঞ্চে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখতেন। ১৪টি পুরস্কার পুরো গল্প বলে না, কিন্তু দেখায় কতবার তিনি বড় মঞ্চ আলোকিত করেছেন।
৪. রिकी পন্টিং এবং কুমার সাঙ্গাকারা: ১৬টি পুরস্কার

ব্যাটিং ডায়নামোদের কথা বললে এই দুইজন সর্বদা আলোচনায় থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অধিনায়ক রকি পন্টিং বিরোধীদের ব্যাটে বিশাল ছিদ্র করতেন ড্যাড্ডি হান্ড্রেডস দিয়ে। আশেজ হোক বা উপমহাদেশের ধুলোঝড়, পন্টার হাজির থাকতেন। ১৬৮ টেস্টে ১৬টি ম্যাচ সেরা পুরস্কার এটি প্রমাণ করে।
কুমার সাঙ্গাকারা সাদা পোশাকে এক কবিতা ছিলেন। যখনই শ্রীলঙ্কার দরকার হত শ্রেণীবিন্যাসের, সাঙ্গা সেই মুহূর্তে হাজির হতেন। তিনি ছিলেন সব মুঠোর কাজ, সময় এবং ধৈর্যের মিশ্রণ। ১৩৪ টেস্টে ১৬বার ম্যাচের সেরা। এটা বোঝায় কীভাবে তিনি শ্রীলঙ্কাকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বার করে এনেছেন।
৩. শেন ওয়ার্ন এবং ওয়াসিম আকরাম: ১৭টি পুরস্কার

শেন ওয়ার্ন শুধু লেগ স্পিন করেননি, তিনি লেগ স্পিন খেলার ধরনই বদলে দিয়েছেন। বড় টার্ন, আরও বড় ব্যক্তিত্ব। ১৪৫ টেস্টে ১৭টি ম্যাচ সেরা পুরস্কার নিয়ে ওয়ার্নি প্রায়ই খেলা অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ফিরিয়ে এনেছেন।
২. মুত্থিয়া মুরালিথারণ: ১৯টি পুরস্কার

মুত্থিয়া মুরালিথারণ শুধু উইকেট নেননি, পুরো টিমকেই গিলে ফেলেছেন। ৮০০ টেস্ট উইকেট নিশ্চয়ই অবিশ্বাস্য, কিন্তু ১৩৩ টেস্টে ১৯টি ম্যাচ সেরা পারফরম্যান্স? এটা অন্য স্তরের।
মুরালির বিশেষত্ব ছিল তার ধারাবাহিকতা, ওভার পর ওভার, স্পেল পর স্পেল। তিনি রেকর্ড ভেঙেছেন, ব্যাকস ও ব্যাটিং অর্ডার ভেঙেছেন। আর সব করেছেন এক হাসিমুখ নিয়ে, যার ভেতর লুকানো ছিল নির্মম মনোভাব। বল তার হাতে থাকলে ব্যাটসম্যান নিরাপদ ছিলেন না।
১. জ্যাক কলিস: ২৩টি পুরস্কার

সেরা খেলোয়াড়? যিনি সবই করেছেন: জ্যাক কলিস। তিনি শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার মেরুদণ্ড ছিলেন না, তাদের প্রাণহৃদয় ছিলেন। ১৬৬ টেস্টে ২৩টি ম্যাচ সেরা পুরস্কার। এটা কোনো ভাগ্যের খেলা নয়, এটা আধিপত্য।