ডেভিড লয়েড Shubman Gill ব্যাটিংয়ে গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন এবং তার খেলার স্টাইলকে ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
দ্বিতীয় শতরানের পর Shubman Gill প্রশংসায় মুখর ক্রিকেট বিশ্ব, আজহারউদ্দিনের সঙ্গে তুলনা ডেভিড লয়েডের

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পর চারদিক থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন Shubman Gill। টেস্ট সিরিজে পরপর দুটি সেঞ্চুরি করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন তিনি। এজবাস্টনে অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দুর্দান্ত এক শতরান করে ভারতকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে টেনে তোলেন। ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার টেস্ট দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যাট হাতে ফুরিয়ে উঠছেন, দুই ম্যাচেই দেখিয়েছেন ব্যাটিংয়ে চরম ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস। বিরাট কোহলির কাছ থেকে নেতৃত্ব গ্রহণের পর টানা সেঞ্চুরি তার হাত ধরেই টেস্ট দলে স্থিতিশীলতার আভাস দিচ্ছে।
এজবাস্টন টেস্টের প্রথম দিনে গিল ব্যাট হাতে ছিলেন অদ্ভুত শান্ত, ভুলের কোনও সুযোগই দেননি। ইংল্যান্ডের আক্রমণ সামলে আত্মবিশ্বাসী স্ট্রোকপ্লে ও ধৈর্য্যের সঙ্গে ব্যাট চালিয়ে ১৯৯ বলে পূর্ণ করেন তার ক্যারিয়ারের সপ্তম ও সবচেয়ে ধীরগতির টেস্ট সেঞ্চুরি। ১৪ বলের মধ্যে তিনটি বাউন্ডারির মাধ্যমে তুলে নেন এই সেঞ্চুরি। ১১৪ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন তিনি, আর অন্য প্রান্তে রবীন্দ্র জাডেজা (৪১*) অবিচল সঙ্গ দেন। প্রথম দিনের শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৩১০/৫।
Shubman Gill এই ইনিংস দেখে মুগ্ধ প্রাক্তন ইংল্যান্ড ক্রিকেটার ডেভিড লয়েড, যিনি তার ব্যাটিং স্টাইলকে কিংবদন্তি মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
Shubman Gill ব্যাটিং প্রশংসিত, কিন্তু নেতৃত্ব নিয়ে সংশয়ে লয়েড

“শুবমান গিল চতুর্থ নম্বরে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন, হেডিংলিতে একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন এবং এখানে আরেকটি শতরান করেছেন। ওর ব্যাটিং খুবই সহজস্বাভাবিক দেখায় এবং দেখতে দারুণ লাগে। ওকে দেখলে আমার মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের কথা মনে পড়ে—যিনি মসৃণ স্ট্রোক এবং শান্ত স্বভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন, যাঁর যেন কিছুতেই ভয় নেই,” ডেইলি মেইল-এ নিজের কলামে লিখেছেন ডেভিড লয়েড।
তবে শুবমান গিলের নেতৃত্বে এখনও পুরোপুরি আস্থা পাচ্ছেন না লয়েড। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম টেস্টে গিল কিছুটা বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিলেন, এবং এখন এজবাস্টনে সেই ভুলগুলো না করার সুযোগ তাঁর সামনে রয়েছে।
“মাত্র ২৫ বছর বয়সে গিলের সামনে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো নেতৃত্বে স্বস্তি খুঁজে পাওয়া, কারণ লিডসে ওকে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত মনে হয়েছে,”—তিনি আরও যোগ করেন।
এদিকে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ভারত তিনটি পরিবর্তন এনেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত ছিল জসপ্রীত বুমরাহকে না খেলানো। এটি আগেই ঠিক করা হয়েছিল যে তিনি পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তিনটিতে খেলবেন, ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে। শার্দুল ঠাকুর ও সাই সুদর্শনও দলে জায়গা পাননি।
তবে সিরিজে ০-১ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় বুমরাহকে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। রবি শাস্ত্রী ও সুনীল গাভাসকরের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটাররা প্রশ্ন তুলেছেন—দলের সেরা পেসারকে বিশ্রাম দেওয়ার যৌক্তিকতা কী, বিশেষ করে দুই টেস্টের মাঝে পাঁচদিনের ব্যবধান থাকলেও? সিরিজে ফিরে আসার গুরুত্ব মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই।